সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

2

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের জন্য ‘সম্প্রসারণমুখী’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঘোষিত মুদ্রানীতি লক্ষ্য অর্জনে বেশকিছু ঝুঁকি-অনিশ্চয়তা দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। করোনার কারণে এবার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে মুদ্রানীতি। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করছে।

ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জন প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি কর্মসূচির উদ্দিষ্টগুলো অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গভর্নর। করোনা মহামারি, বন্যা, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায় এ মুদ্রানীতি করা হয়েছে- বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে অন্যতম হলো-

>> করোনার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে গতি-প্রকৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়া।

>> করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব প্রণোদনা, ঋণ ও বিনিয়োগ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সেগুলো যথাযথভাবে উৎপাদন এবং কর্মসৃষ্টি সহায়ক উপায়ে বাস্তবায়িত না হলে মন্দ ঋণ বৃদ্ধিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টির সম্ভাবনা।

>> বৈশ্বিক চলমান অর্থনৈতিক মন্দার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা।

>> প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে চলমান বন্যার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা। এসব ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণে সর্বদাই সচেষ্ট থাকবে।

২০২০-২১ এর মুদ্রানীতি ভঙ্গিকে স্পষ্টতই সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলান মুখী উল্লেখ করে গভর্নর জানান, মুদ্রানীতির মূল কাজ হলো মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক অর্থাৎ করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

এ জন্য করোনা সঙ্কটে অর্থের যোগান বাড়াতে রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) ও রিভার্স রেপোর সুদহার আরও এক দফা কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এ ক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থবছর ২০২০-২১ এ নীট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলান মুখী মুদ্রানীতি ভঙ্গির কারণে নীট অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

এছাড়া নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মত অপরিবর্তিত রেখে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গেল অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।