শেয়ারবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ৩৩ দফা দাবি

10

শেয়ারবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বাজারের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করনীয় বিষয়ে তেত্রিশ দফা দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন।

রোববার সংশ্লিষ্ট দাবি লিখিত আকারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এর কাছে জমা দিয়েছে সংগঠনটি। এ সময় বিএসইসির চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে অনেক বিধি-বিধান ও আইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনটাই সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আপনার প্রত্যক্ষ ও কঠোর হস্তক্ষেপে বর্তমান শেয়ারবাজার স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল ও উন্নয়ন হোক এটাই বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের প্রাণের দাবী সমূহ নিম্নে বর্ণিত হলো:

বিনিয়োগকারীদের প্রাণের দাবি ৩৩ দফা হচ্ছে:

০১. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা, উন্নয়নে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে জানুয়ারি, ২০১১ ইং সন থেকে হাল নাগাদ পর্যন্ত মার্জিন ঋণের বিপরীতে আরোপিত ও অনারোপিত ১০০% সুদ সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে মওকুফের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

০২. স্মরণকালের বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীরা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় দেশের অন্যান্য সেক্টরের মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে প্রায় এক লক্ষ ১৭ (সতের) হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে বিনা সুদে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে কমপক্ষে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করে ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদী ঋণের দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
০৩. বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে পুঁজিবাজারে বর্তমানে ভয়াবহ ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। যেখানে এই বাজারে গড়ে প্রতিদিন ৬০/৭০ কোটি টাকার ট্রেড হচ্ছে। সেখানে ঋণগ্রস্ত ও লোকসানী প্রতিষ্ঠান ঊীঢ়ৎবংং ওহংঁৎধহপব খরসরঃবফ ২৬ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলনের পাঁয়তারা করছে। যা বর্তমান বাজারের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। আবার উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন করে ঋউজ করে রাখবে। তাহলে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের কি লাভ হবে? কাজেই বর্তমানে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ঋণগ্রস্ত ও লোকসানী প্রতিষ্ঠান ঊীঢ়ৎবংং ওহংঁৎধহপব খরসরঃবফ কে তালিকাভুক্ত না করে আগামী ২০২১ ইং সালে বাজারে লিস্টিং করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
০৪. ডিএসই’র সদস্য ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ হাউস অনুমতি ব্যতিত চরম দূর্নীতি, অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করার চিন্তা-ভাবনা করছে। ইতিমধ্যে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ অফিস বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। কাজেই অনতিবিলম্বে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, তাদের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ হিসাব জব্দ করে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
০৫. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উপর নতুন করে প্রমোশনাল এক্সপেন্স খাতে আরোপিত কর পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই বাতিল করতে হবে। কারণ, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে (অর্থ আইন ২০২০) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার হ্রাস করা হয়নি। যদিও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ৩৫% হতে ৩২.৫%এ হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাথে অন্যান্য কোম্পানির কর হারের পার্থক্য হ্রাস পেয়েছে, যা নতুন ও ভাল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করবে।
উপরন্তু আয়কর অধ্যাদেশের ৩০(পি) ধারা সংযোজনের মাধ্যমে ‘‘প্রমোশনাল এক্সপেন্স” খাতে কোম্পানীসমূহের অনুমোদিত ব্যয়ের সীমা নির্ধারন করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত এ ধারা অনুসারে কোন কোম্পানির টার্নওভারের ০.৫% সীমার অতিরিক্ত ‘‘প্রমোশনাল এক্সপেন্স” খাতে ব্যয় করযোগ্য হবে। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানিসমূহ টার্নওভারের ৫% থেকে ১০% অর্থ ব্যয় করে থাকে, যার ফলে কোম্পানীসমূহ প্রতিযোগীতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

নতৃন এ কর আরোপের ফলে কোম্পানিসমূহের প্রকৃত করহার ৫%-৬৯% বৃদ্ধি পাবে। আয়কর বৃদ্ধির ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের করপরবর্তী মুনাফা ব্যপকভাবে হ্রাস পাবে এবং কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদেরকে লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে না।
নভেল করোনা ভাইরাসের কারনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানীর ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় নতুন কর আরোপ করার ফলে বাজারে সকল শ্রেণীর বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা কারোরই কাম্য নয়। নতুনভাবে আরোপিত এ কর বাতিল করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
০৬. পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তোরণে কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ বা বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।
০৭. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে সম্পূর্ণ নি:শর্তভাবে বিশেষ সুবিধা দেয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে।
০৮. ICB (Investment Corporation of Bangladesh) is a govt. Dignified Financial Institution. আইসিবি তার জন্মলগ্ন থেকেই পুঁজিবাজারে ক্রান্তিকাল হতে উত্তোরণে সাপোর্ট অব্যাহত রেখেছে এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। কাজেই আইসিবি যাতে পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে নিয়মিত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে- সেজন্য এক্সপোজার লিমিট এর আওতা বা বিধি-বিধান থেকে শিথিল বা মুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও, বাজারের ক্রান্তিকাল থেকে উত্তোরণে যাতে সাপোর্ট অব্যাহত রাখতে ও বাজারকে স্বাভাবিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জড়ষব চষধু করতে পারে সে লক্ষ্যে আইসিবিকে Market maker Fund হিসেবে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। Market maker Fund -এর সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে আইসিবি। এই ফান্ডের সম্পূর্ণ Profit Yearly হিসেবে সরকার গ্রহণ করতে পারে।
০৯. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ভাল ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে আইপিওতে আনতে হবে। এবং ভালো ভালো কোম্পানিগুলোকে লিস্টিংয়ে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করহার ২৫% থেকে কমিয়ে ২০% করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন- ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, রবি, বাংলালিংক, পেপসি, কোকা-কোলার মতো মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে বাজারে লিস্টিং করার দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। কোন ক্রমেই দুর্বল ও ঋণগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনয়ন করা যাবেনা।
১০. সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনয়নে ও উন্নয়নে ২০০.০০ (দুইশত) কোটি টাকা বিনিয়োগের সার্কুলার জারি করেছে। কাজেই বাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে উত্তরনে উল্লেখিত ২০০.০০ (দুইশত) কোটি টাকার বিনিয়োগ সার্কুলার সংশোধনপূর্বক এক হাজার (১০০০.০০) কোটি টাকায় উন্নীত করে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ও পুঁজির সংকট দূর করত: আগামী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে উক্ত বিনিয়োগসমূহ সম্পন্ন করার জন্য বিণীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
১১. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের লোকসান থেকে উত্তোরণে আইপিও কোটায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০% এ উন্নীতকরণ করতে হবে।
১২. ডুয়েল ট্যাক্স প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিভিডেন্ড এর উপর থেকে ১৫% অওঞ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আয় করমুক্ত সীমা ন্যুনতম ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করার দাবি করছি। এবং শেয়ার লেনদেনের উপর উৎসে কর ০.০৫ শতাংশের পরিবর্তে ০.০১৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

১৩. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানিকে কোয়ার্টারলী (ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে) লাভজনক হারে ইপিএস, পিই ও এনএভি দেখাতে হবে। এবং সন্তোষজনক হারে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করতে হবে। কোনো ক্রমেই ফেব্রিকেডেট ও ম্যানুপুলেশন এর আশ্রয় নেয়া যাবেনা। এ বিষয়ে তালিকাভুক্ত প্রত্যেকটি কোম্পানিকে আপনার কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। তাহলেই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা তাদের লোকসান থেকে উত্তোরণ পাবেন এবং পুঁজিবাজার স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল ও উন্নয়ন হবে।
১৪. আইপিও, রাইট ইস্যূ এবং প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যূর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না- সে বিষয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করে দ্রুত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ তথ্যাবলী বিনিয়োগকারীদের অবহিত করতে হবে।
১৫. পুঁজিবাজারে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বাংলাদেশ ফান্ড, ইউনিট ফান্ড, পেনশন ফান্ড এবং বিএবি ফান্ডের উন্নয়নে কার্যকরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১৬. বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে।
১৭. বাজারে নতুন কোম্পানি আসলেই কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী মহল জোর- জবরদোস্তী করে প্লেসমেন্ট শেয়ার অ্যালট নেয়। এরাই আবার তাদের সুবিধামত সময়ে শেয়ারগুলো বাজারে বিক্রির মাধ্যমে গেম্বলিং করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যার ফলে আমরা বিনিয়োগকারীরা ও পুঁজিবাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই ঐ সমস্ত বর্ণচোরা অসাধু স্বার্থান্বেষী গেম্বলার ও জালিয়াতীচক্রকে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
১৮. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতায় শেয়ার বাই-ব্যাক আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৯. পুঁজিবাজারের অটোমেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
২০. পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করতে হবে।
২১. বাজারের প্রাইস ইনডেক্সের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের হস্তক্ষেপ বা কালো থাবার ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার কার্যকরী বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২২. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাজারের দরপতন রোধে ফ্লোরপ্রাইস পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে।
২৩. বাজারের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কল্যাণার্থে চলতি অর্থবছরের সিডিবিএল বিও চার্জ (হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি) মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে।
২৪. বাজারের স্থিতিশীলতায় ব্যাংক খাতের বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন করতে হবে। যেমন- মুদারাবা বন্ড, পারপিচিউল বন্ড ইত্যাদি।
২৫. ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের বিশাল অংকের টাকা আটকে আছে। কাজেই যে সকল কোম্পানি নিয়মিতভাবে উৎপাদনে আছে ও বিএসইসির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে- সেগুলোকে অতি দ্রুত মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা তাদের ক্ষতি থেকে উত্তরণ পাবেন।
২৬. বাজারের বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উন্নীতকরণে ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলকে ঢেলে সাজাতে হবে।
২৭. পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিও হিসাব খোলার জন্য সিডিবিএল, বিএসইসি ও সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের ওপেনিং ফি কমাতে হবে।
২৮. পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণে ঝসধষষ পধঢ় সধৎশবঃ গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত স্থগিত করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৈষম্য-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা সমিচীন হবেনা। কাজেই সেকেন্ডারি মার্কেটের উন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
২৯. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য ইস্যূ ম্যানেজার ও অডিটরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যে বিশেষ বিধি প্রণয়ন করতে হবে।

৩০. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের উত্তোরণের লক্ষ্যে বিশেষ প্রণোদনা স্কীমের ৯০০.০০ কোটি টাকা (পূণ:অর্থায়ন স্কীম) কোথায় এবং কিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে জরুরী ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদেরকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা স্কীমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিকেও সংস্কার করতে হবে।
৩১. পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকরীদের কল্যাণার্থে Investor’s Welfare Protection Fund দ্রুত গঠন করতে হবে।
৩২. বিনিয়োগকারীদের Awareness (সচেতন) করার লক্ষ্যে Quarterly বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করতে হবে এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা শেয়ার ব্যবসার প্রাণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য ব্যবসায়েরও যোগাযোগ কেন্দ্র। পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের knowledge able করার লক্ষ্যে বিএসইসি’র সাবেক প্রধান কার্য্যালয় ১০, দিলকুশা বা/এ (জীবনবীমা টাওয়ার ভবন, লেভেল-১৪) তে পুঁজিবাজার বিষয়ক একটি উন্নত মানের লাইব্রেরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করছি।
৩৩. পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের কল্যাণার্থে প্রতিদিন ১৫/২০টি কোম্পানির এজিএমের অনুমোদন না দিয়ে সর্বোচ্চ ২টি কোম্পানির (সকাল ও বিকাল) এজিএম ঢাকাস্থ সিটির মধ্যে অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিতে হবে। শেয়ারহোল্ডারগণ যাতে এজিএমে উপস্থিত হয়ে বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির উন্নয়নের জন্য গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে পারেন সে লক্ষ্যে এজিএমের কমপক্ষে ১৪ দিন পূর্বে Annual Report হস্তগত হতে হবে। একই সঙ্গে এজিএমে উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের মানসম্মত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিতে হবে।