শেয়ারবাজার থেকে ২৩৮ কোটি টাকা উত্তোলন করবে ওমেরা

4

শেয়ারসূচক রিপোর্ট: বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৩৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। রোববার রেডিশন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন, গ্রান্ড বলরুম (লেভেল-১), ঢাকাতে রোড শো অনুষ্টানে এ কথা জানান কোম্পানিটি।

আইপিও থেকে ২৩৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মধ্য থেকে ১৮৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা দিয়ে সমুদ্রগামী নতুন জাহাজ কেনা হবে। আর ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে।

সর্বশেষ হিসাব বছরে (২০১৮-১৯) ওমেরা পেট্রোলিয়ামের নিট মুনাফা ছিল ৬৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২.৯৩ টাকা। গত ৩০ জুন, ২০১৯ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯.৭১ টাকা।

রোড শো’তে জানানো হয়, গ্যাস বিক্রির দিক দিয়ে ওমেরা পেট্রোলিয়াম বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি। কিন্তু অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক, মান ও নিরাপত্তা ইত্যাদি দিক থেকে কোম্পানিটির অবস্থান সবার উপরে। আগামী তিন বছরের মধ্যে তারা গ্যাস বিক্রিতেও শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে চান।

এতে বলা হয়, এলপিজি পরিবহনের জন্য নিজস্ব সমুদ্রগামী জাহাজ থাকলে পরিবহন ব্যয় অনেক কমে যাবে। তাতে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমজেএল বাংলাদেশ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ২০১৫ সালে ১ লাখ টন এলপিজি বোতলজাত করার সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কোম্পানিটির সক্ষমতা ৩ লাখ টন। শুরুতে শুধু গৃহস্থালী কাজে তথা বাসা-বাড়িতে রান্নার জন্য এই গ্যাস বিপণন করা হলেও পরবর্তীতে এর বাজার অন্যান্য খাতে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বড় আবাসিক ভবন, শিল্প-কারখানা ও যানবাহনের জন্যেও (অটো গ্যাস) গ্যাস সরবরাহ করে থাকে কোম্পানিটি। আগামী দিনে কোম্পানিটি শিল্প ও অটোগ্যাসে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেবে। আর এর উপর ভর করে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির আশা করছে তারা। বর্তমানেও কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি এই খাতের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশ বেশি।

কোম্পানিটি দেশীয় বাজারের পাশাপাশি সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে এলপিজি রপ্তানি করবে। ইতোমধ্যে ত্রিপুরায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় কোম্পানি ইন্ডিয়ান ওয়েল লিমিটেড ওমেরার কাছ থেকে এলপিজি কিনে ওই রাজ্যগুলোতে বিপণন করবে। এই বাজারেও বড় সম্ভাবনা দেখছে কোম্পানিটি।

রোড শো’তে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধন নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক আহমেদ জানান, ‘বর্তমানে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ৬২.৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক মবিল যমুনা বাংলাদেশ লিমিটেড। এছাড়া কোম্পানিরি অন্যান্য অংশীদারের মধ্যে আছে বি বি এনার্জি এশিয়া পিটিই লিমিটেড এবং সিংগাপুর ও নেদারল্যান্ডের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফ.এম.ও।’

তিনি জানান, ‘ দেশের এলপি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় রেখে ২০১৫ সালে সম্পূর্ন ইউরোপিয়ান প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ওমেরা পেট্রোলিয়াম এলপিজি খাতে যাত্রা শুরু করে। এলপিজি আমদানি করে ওমেরা পাঁচটি ভিন্ন আকারে যথা ৫.৫, ১২, ২৫, ৩৫ ও ৪৫ কেজি সিলিন্ডারে বোতলজাত করে গৃহস্থালী এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বাজারজাত করে থাকে। এছাড়াও শিল্পে ব্যবহারের জন্যে বাল্ক আকারে এলপিজি বিক্রি করে ওমেরা।’

কোম্পানির সিইও আরো জানান, এলপিজি সংরক্ষন এবং ব্যবহারকারীদের নিকট বিতরনের জন্য ওমেরার রয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা। ওমেরার রয়েছে ৯,০৫০ মেট্রিক টন এলপিজি ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি ট্যাংক। এছাড়াও মোট ১০০০ মেট্রিক টন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি এলপিজি বহনকারী বার্জ যা আভ্যন্তরীন নৌপথে এলপিজি পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ওমেরার রয়েছে ৩২টি এলপিজি পরিবহনকারী রোড ট্যাংকার যার প্রত্যেকটি ধারণ ক্ষমতা ১৭ মেট্রিক টন। প্রতিদিন এক শিফটে ৬০,০০০ সিলিন্ডার বোতলজাত করার সক্ষমতা রয়েছে ওমেরার।

রোড শোতে ওমেরা পেট্রোলিয়াম ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের কর্ণধার আজম জে চৌধুরী, পরিচালক তানজিম চৌধুরী, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আক্তার হোসেন সান্ন্যামাত বক্তব্য রাখেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে এদের পাশাপাশি অংশ নেন কোম্পানিরটির পরিচালক তানজিল চৌধুরী, ইস্যু ম্যানেজার লংকাবাংলা ইনভেস্টেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম।

রোড শো’তে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের পরিচালক আজম জে চৌধুরী বলেন, এলপিজির ব্যবসা মোটেও সিলিন্ডারের ব্যবসা নয়, এটি হচ্ছে গ্যাসের ব্যবসা। দেশে একদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমছে, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের কারণে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে এলপিজি সম্ভাবনা অপার।

তিনি বলেন, দেশের সর্বাধুনিক এলপিজি প্ল্যান্ট হিসেবে ওমেরা এলপিজিকে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা ও সেবার দিক থেকে দেশের শীর্ষ এলপিজি কোম্পানি। একমাত্র এই কোম্পানিতেই নেদারল্যান্ডের সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এফএমও’র মতো বিদেশী বিনিয়োগ আছে। একমাত্র কোম্পানি হিসেবে ওমরা পেট্রোলিয়াম বিদেশে এলপিজি রপ্তানি করছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) একমাত্র কোম্পানি হিসেবে ওমেরাকে তাদের কার্যক্রমের অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছে, যার ফলে ওমেরা পেট্রোলিয়াম রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে এলপিজি চুলা ও সিলিন্ডার সরবরাহ করছে।