এডিএন টেলিকমে আইপিও শেয়ার বিওতে জমা

13

সম্প্রতি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এডিএন টেলিকমে লিমিটেডের লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসেবে জমা হয়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, কোম্পানির আইপিও লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে আজ ১৯ ডিসেম্বর বিনিয়োগকারীদের নিজ নিজ বিও হিসাবে জমা হবে। এখন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেলে শিগগিরই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে।

এর আগে ২৮ নভেম্বরের আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য লিমিটেডের প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) লটারির ড্র সম্পন্ন হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে কোম্পানির আইপিওতে আবেদন শুরু হয় যা ১১ নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৫৫তম সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোম্পানির অর্থ উত্তোলনের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যু মূল্য নির্ধারণের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৩০ টাকায় প্রান্ত-মূল্য নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজারটি সাধারণ মেয়ার ৩০ টাকা মূল্যে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও ২৭ টাকা মূল্যে (কাট-অফ মূল্য থেকে ১০ শতাংশ বাট্টায়) ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি সাধারণ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর (অনিবাসী বাংলাদেশিসহ) কাছে ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিশন।

এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির ৫৭ কোটি টাকার মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হবে। এবং বাকি ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮২ টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ২৭ টাকা দরে বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

বাজার থেকে তোলা অর্থ ভৌত কাঠামো উন্নয়ন, ডাটা সেন্টার স্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

এডিএন টেলিকমের আইপিও প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, আইপিওর মাধ্যমে অর্থ তুলে বিএমআরইতে ব্যয় করা হবে ৩২ কোটি ৬৭ লাখ, ডাটা সেন্টারে পাঁচ কোটি ৪৯ লাখ, ঋণ পরিশোধে ১৫ কোটি ৯০ লাখ এবং বাকি অর্থ আইপিও খরচ হিসেবে যাবে।

ঋণ পরিশোধ ও আইপিওর খরচ ছাড়া আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন করা বাকি অর্থ প্রায় তিন বছরে উঠে আসবে বলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এডিএনের ঋণমাণ দীর্ঘ মেয়াদে এ প্লাস এবং স্বল্প মেয়াদে এসটি টু।

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৭ তারিখে সমাপ্ত বছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, শেয়ার প্রতি নীট সম্পত্তি মূল্য ১৬.১৩ টাকা এবং বেসিক শেয়ারপ্রতি আয় ২.৫২ টাকা ও সমন্বিত (অ্যাডজাস্টেড) শেয়ার প্রতি আয় ২.৩৬ টাকা এবং ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি আয় ১.৮১ টাকা।

এদিকে, ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.৮৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.৬৭ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১.০৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৮.৮০ টাকা। সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে এডিএন টেলিকম।

এছাড়াও চলতি অর্থবছরে ২০১৯-২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে এডিএন টেলিকমের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ০.৪৮ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ০.১৫ টাকা।

আলোচিত সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.৩২ টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বর,২০১৯ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ২১.৬৭ টাকা।

৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিতে মোট সম্পদের পরিমাণ ১২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মোট চার কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার শেয়ারের মধ্যে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৭৩ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ার রয়েছে অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।